rockland bd

তারাগঞ্জে কিশোরীবান্ধব স্যানিটেশন কমপ্লেক্স; ঋতুকালিন স্কুলে অনুপস্থিত আর নয়

0

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি


প্রিয়ডের ভয়ে বিদ্যালয়ে না এসে বাড়িতে এখন আর থাকতে হয় না। এখন বিদ্যালয়ের টয়লেটে প্যাড ,সাবান সবই আছে। প্রিয়ড আর সমস্যা নয়, বলছিলেন ফাজিলপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী আরজিনা আক্তার (১৪)।
তৃতীয় তলা স্কুল ভবনটিতে রয়েছে বিরাট খেলার মাঠ ও লাইব্রেরী। শিক্ষা সরঞ্জামের তেমন ঘাটতি নেই।
কিন্তু বড় ঘাটতি স্যানিটেশন সুবিধায়। কেননা ছয়’শরও বেশি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য এখানে টয়লেট মাত্র দুইটি। সেগুলোর অবস্থাও নাজুক। নোংরা পরিবেশ, নেই পানির ব্যবস্থা। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফাজিলপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক বছর পূর্বের চিত্র এটি।
এখন সে অবস্থা আর নেই । স্কুলটিতে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা স্যানিটেশন কমপ্লেক্স। ছাত্রীদের ঋতুকালিন ব্যবস্থাপনাও রয়েছে সেখানে।
স্কুলের শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার জানান, আগের পরিস্থিতি সাথে তুলনা করলে এখন স্বপ্নের মতো মনে হয়। নতুন টয়লেটে মেয়েদের জন্য বিশেষ সুবিধাথাকায় পেয়ে তারা ভীষণ খুশি। স্কুলের শিক্ষার্থী মনিরা আক্তার বলছিলেন, আগে প্রিয়ডের সময় স্কুলে যেতাম না। এখন সে সমস্যা আর নেই। স্কুলের টয়লেটে প্যাড, সাবান সবই আছে। এটা এখন আর সমস্যা নয়।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল হাইজিন বেসলাইন সার্ভে ২০১৪ সূত্র মতে, মাত্র ২২ শতাংশ স্কুলে মেয়েদের জন্য আলেদা টয়লেট থাকলেও সেখানে ঋতুকালিন ব্যবস্থাপনা বলতে কিছু নেই। তাই প্রিয়ডের কারনে ৪০ শতাংশ ছাত্রী মাসে গড়ে তিন দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে।
৮০ শতাংশ উপস্থিত না থাকায় এদের কেউ কেউ উপবৃত্তি থেকেও বঞ্চিত হয়।
এমন বাস্তবতায় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে রংপুর বিভাগের সব কয়টি উপজেলায় ওয়াশ ইন স্কুল কর্মসূচীর আওতায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা মাদ্রাসায় ইনক্লুসিভ স্যানিটেশন কমপ্লেক্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ওয়াটার এইড বাংলাদেশ।
তারাগঞ্জ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা এমজেএসকেএস। ওয়াটার এইড প্রথম পর্যায়ে রংপুর বিভাগের ৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও মেয়েদের ঋতুকালিন স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করে দেয়। সব মিলিয়ে এ সুবিধার আওতায় এসেছে ৩০ হাজার ৫৭২ শিক্ষার্থী ও এক হাজার ২০০ জন শিক্ষক।
স্কুল পর্যায়ে ইনক্লুসিভ স্যানিটেশন কমপ্লেক্স মূলত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সেবায় একটি বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনা । বেশ বড় আকারের এ কমপ্লেক্সে রয়েছে রিফ্রেশ রুম, বেসিন, আয়না, খোলামেলা বসার জায়গা এবং মেয়েদের ঋতুকালিন ব্যবস্থাপনার উপকরন । রয়েছে পর্যাপ্ত পানি ও আলোর ব্যবস্থা।
শিশু ও প্রতিবন্ধিবান্ধব করেই এগুলো তৈরী। এ রকম একটি আধুনিক স্যানিটেশন কমপ্লেক্স রয়েছে উপজেলার লক্ষণীপুর মাঝের হাট দাখিল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানের সুপার আবু সালেহ শেখ জিকরুল হক বলেন, আড়াই’শ ছাত্রীর ভোগান্তি দুর করেছে এ টয়লেট। মেয়েরা এটি ব্যবহার করছে। পরিস্কার রাখার কাজটি করছে তারাই।
ওয়াটার এইড জানায়, এরই মধ্যে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় কিশোরীদের ঋতু সংক্রান্ত অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ স্কুলছাত্রী এখন ঋতুকালিন স্যানিটারী প্যাড ব্যবহার করে এবং ৩৪ শতাংশ ছাত্রী স্কুলেই প্যাড বা কাপড় বদলান।
কমপ্লেক্সগুলো রক্ষণাবেক্ষন বিষয়ে এমজেএসকেএসের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শফিকুল আলম বলেন, উপজেলার ১৪টি বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করা হবে। এতে করে ৬ হাজার ৬০ জন শিক্ষার্থী এবং ২৫৭ জন শিক্ষক/শিক্ষিকা কর্মচারী উন্নত টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্তদের নিয়ে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তাদের একটি তহবিল রয়েছে। ব্যাংকে রাখা তহবিল থেকেই স্যানিটেশন কমপ্লেক্স রক্ষণাবেক্ষনের কাজ চলে।
ওয়াটার এইড বাংলাদেশের হেড অব প্রোগ্রামার আফতাব ওপেল বলেন, স্কুলে নিরাপদ ঋতুকালিন পরির্চচার ব্যবস্থা থাকা মেয়েদের জন্য কেবল সুয়োগ নয়, অধিকারও। তবে শুধু ভালো স্থাপনা তৈরিই যথেষ্ট নয়। অনেক শিক্ষক প্রিয়ড স্পর্শকাতর বিষয় বলে এড়িয়ে যান। পড়াতে চান না। এটা উঠতি বয়সের মেয়েদের জীবনকে সঠিকভাবে জানতে এবং চর্চা করতে পিছিয়ে দেয়।

বাংলাটুডে২৪/প্রবীর কুমার/আর এইচ

Comments are closed.