rockland bd

ঝালকাঠিতে নকলের মহোৎসব

0

শাহ্ মুহাম্মদ সুমন রশিদ, বরিশাল ব্যুরো

কেন্দ্রের পাশেই গাছের নিচে নকলের স্তূপ, ছবি: সংগৃহীত

ঝালকাঠির নলছিটিতে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও দাখিল ২০১৯ পরীক্ষায় শিক্ষকদের সহায়তায় ব্যাপক নকলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় অবাধ নকলের পরিবেশের জন্য ঝালকাঠিতে নকলের ছড়াছড়ি কেন্দ্রসচিবদের দিকে অভিযোগ আনল অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনেরা।
গতকাল মঙ্গলবার ইংরেজী প্রথম পত্র পরীক্ষা শুরুর পর কতিপয় অসাধু শিক্ষক কক্ষের ভেতরে নকল সরবরাহ করেছে। এ সময় বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির অভ্যন্তরে ভবনের পেছনে নকল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন যুবককে। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।এদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত আকাইদ ও ফিকাহ্ পরীক্ষা চলাকালে নলছিটি সরকারি ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে ভিডিওধারণ করা চিত্রে দেখা গেছে, পরীক্ষার হলগুলোতে দায়িত্বরত শিক্ষকরা দৌড়াদৌড়ি করছেন। আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন পরীক্ষার্থীদের কাছে। কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষেই পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে সরবরাহকৃত নকল করেই পরীক্ষা দিচ্ছে। কক্ষগুলোর জানালার আশেপাশে নকলের স্তুপ জমে আছে। এ বছর উপজেলায় ৯টি কেন্দ্রের ১৩টি ভেন্যুতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে নলছিটি সরকারি ডিগ্রী কলেজ, দপদপিয়া ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজ, প্রেমহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভরতকাঠি জি.আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হদুয়া বৈশাখিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও বি.জি ইউনিয়ন একাডেমী কেন্দ্রের ইলেন ভূট্টো বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভেন্যুতে পরীক্ষার শুরু থেকেই শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবদের সহযোগিতায় প্রতিটি কক্ষে নকলের মহোৎসব চলছে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে দপদপিয়া ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করা কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, সরেজমিনে উপজেলার অন্যান্য কেন্দ্রে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক জানান, পরীক্ষায় নকল করার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে স্কুলের শিক্ষক ও অফিস সহকারিরা প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন। কয়েকজন শিক্ষক পরীক্ষা শুরুর পর মুঠোফোনে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে তা বাইরে নিয়ে যান। পরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকেরা সঠিক উত্তর লিখে তা পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করেন।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, নকলের বিষয়টি কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাকিব/৬/২/১৯

Comments are closed.