rockland bd

চট্টগ্রামে পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার পর লাশ মাটি চাপা

0

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি-


চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার নিউমুরিং বোবা কলোনী এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দেয় দুর্বৃত্বরা। ১১দিন পর বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে মোহাম্মদ সাঈদ হোসেন (৪০) নামে ওই ব্যবসায়ীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ব্যবসায়ীকে খুন ও লাশ গুমে জড়িত সন্দেহে এরফান উদ্দিন কবির ও আরমান কবির নামের দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিএমপির ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়য়ুা জানান, ব্যবসার জন্য নেয়া প্রায় এক কোটি টাকা ফেরত চাওয়ায় সাঈদ হোসেনকে নিজ বাসায় ঢেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করেছিল অভিযুক্তরা। নিহতের সাঈদের সাথে আত্মীয়তার সূত্র ধরে এরফান ও আরমান প্রায় কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসা করছিল। এই টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সাঈদ নগরীর গোসাইল ডাঙা এলাকার আজিজ মিয়ার বাড়ির আজমল হোসাইনের ছেলে। তিনি স্ত্রী ফরিদা আকতারকে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানার লালখান বাজারের হিলসাইড আবাসিক এলাকার দি ম্যাগনেফিসেন্ট বিটিআইয়ে ফ্ল্যাটে থাকতেন।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা আক্তার বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে আমার স্বামী সাঈদকে বাসা থেকে নিউমুরিং বোবা কললোনীর জসিম বিল্ডিংয়ে ডেকে নিয়ে যায় এরফান ও আরমান। কিন্তু তিনি বাসায় ফেরত না আসায় কয়েকজন স্বজন ও পরিচিত লোক নিয়ে বোবা কলোনির জসিম বিল্ডিংয়ে যাই। সাঈদ কোথায় জানতে চাইলে এরফান ও আরমান কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

এ বিষয়ে তাদের জোর করলে তারা জানান, সাঈদকে পাওনা টাকার দেড় লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। আর সেই টাকা নিয়ে ফেরার পথে ভবন থেকে বের হতেই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমার স্বামী নিখোঁজের পর আমরা ইপিজেড থানায় সাধারণ ডাইরি দায়ের করি। জিডি করার পর পুলিশ এরফান ও আরামানকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, কিন্তু তারা কোনো ভাবেই সাঈদের অবস্থান স্বীকার করেনি। জিডি করার কারণে উল্টো ফরিদাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় দু’ভাই।

সিএমপির ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়য়ুা বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর জিডির সূত্রে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সাঈদের স্ত্রী ফরিদা আক্তার। সেই মামলায় আসামি করা হয় এরফান উদ্দিন কবির (২৬), আরমান কবির (২৪), তাদের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম হিনা (২৩), নাজমুন নাহার (৪৫), মোহাম্মদ জিকু (২২) ও পিয়া আকতারকে (১৮)।

মামলার তদন্তের এক পর্যায়ে নিউমুরিং বোবা কলোনী এলাকায় মাটি খুঁড়ে সাঈদের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ডেকে এনে ব্যবসায়ী সাঈদকে এরফান ও আরমান হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে গুম করে রাখে।

ওসি বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত ৬ আসামির মধ্যে প্রধান দুই আসামি এরফান ও আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.