rockland bd

প্রাণ হারালো ২১ কোটির সুলতান

0

সুলতান ঝোটে

বিটি২৪ নিউজ ডেস্ক

তা স্বাস্থ্য বানাতে একটু আধটু খেতেই হয়। কেউ তাতে মানা করেও না। তাই বলে প্রতিদিন প্রতিবেলায় দুধ, ঘি, আবার সন্ধ্যে হলেই মদ্যপান! মানুষই এগুলো নিতে পারে না, আবার পশু। তাও অনেক বছর এসব মেনে নিয়েছিল সুলতান। চেহারাও হয়েছিল দেখার মতো। দাম উঠেছিল ২১ কোটি টাকা! ভাবা যায়! কিন্তু আর পারলো কই? ঘি-মদে চর্বি কী আর শুধু মানুষের শরীরে জন্মে! পশুর শরীরও আর নিতে পারলো না। হৃদপিণ্ড আর কলিজায় চর্বি জমতে থাকলো সুলতানের, মালিক টেরও পেল না। এরপর এক হার্ট অ্যাটাকেই শেষ!

২১ কোটি টাকার সুলতান মরার পড়ে শুধুই একটা মোষ! মৃত্যুর পর ক্রেতাদের কেউ তার দিকে আর ফিরেও তাকালো না!!

ভারতের হরিয়ানায় খুব আলোড়ন তোলা মোষ ছিল এটি। মালিক আদর করে নাম দিয়েছিলেন সুলতান। পুরো নাম সুলতান ঝোটে। পালতে খরচার কমতি করেননি এর মালিক নরেশ বেনিওয়াল। হরিয়ানার কৈথলের বুড়াখেড়া গ্রামের বাসিন্দা নরেশ তার সুলতানের কারণেই পরিচিতি পান ভারতজুড়ে। খুব ছোট থেকেই সুলতানের লালনপালন করতেন নরেশ। মোষ শাবকটি ছিল তাঁর সন্তানের মতো। দেশি ঘি আর দুধ ছিল সুলতানের খাদ্য। শুধু তাই নয়, ৬ ফুট দৈর্ঘ্য এবং দেড় টন ওজনের সুলতান এক দিনে ১০ কেজি দুধ, ২০ কিলো গাজর, ১০ কিলো সব্জি এবং ১২ কিলো পাতা খেত। তবে আরও একটা নেশা ছিল সুলতানের। সন্ধ্যা হলে মদ্যপান করত।

কিন্তু কেন এত দাম, কেনই বা এত পরিচিতি সুলতানের?

শুধু হরিয়ানা বা পাঞ্জাবই নয়, যেখানে পশু মেলা হত, সেখানেই সুলতান তার গুণের জন্য পুরস্কার জিতত। ২০১৩-তে সর্বভারতীয় পশু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় ঝাঝর, কারনাল এবং হিসারে সেরার পুরস্কার জিতেছিল সুলতান।

সুলতানের এত চাহিদার কারণ হচ্ছে তার বীর্য। সুলতানের বীর্যের বিশাল চাহিদা ছিল। তার মালিক নরেশের দাবি, সুলতানের বীর্য বিক্রি করে বছর ভর লাখ লাখ টাকা আয় করতেন তিনি। বছরে সুলতানের ৩০ হাজার ডোজ বীর্য বিক্রি হত। প্রতি ডোজের দাম ৩০৬ টাকা। আর এ কারণেই সুলতানের দাম এত বিপুল ছিল। রাজস্থানের পুষ্কর পশুমেলায় সুলতানের দাম উঠেছিল ২১ কোটি টাকা।

কিন্তু তার মালিক নরেশ জানান, সুলতান তাঁর সন্তানের মতো। এই বিপুল দাম পেয়েও তাই ওকে বিক্রি করেননি। মৃত্যুর পর তাই তিনি শোকে স্তব্ধ। বিপুল অর্থ হারানোর চেয়েও সন্তান হারানোর কষ্ট তার বুকে চেপে বসেছে। সূত্র: আনন্দবাজার

/টিএন/

Comments are closed.