rockland bd

খুলনায় মামলার জালে বিএনপি, নির্বাচনী প্রচারণায় আ’লীগ

0

খুলনা ইউএনবি-


খুলনায় যখন ‘আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি’ নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি ঠিক তখনই নতুন করে গায়েবি মামলার ফাঁদে পড়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। গত এক মাসে সাড়ে তিন হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলায় দলটিতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দলের খুলনার সিনিয়র নেতারা এরই মধ্যে এসব মামলাকে ‘গায়েবি’ মামলা আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিনই মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে নির্বাচনী ক্যাম্পইন, সমাবেশ ও মিছিল।
এসব কর্মসূচিতে দলটির নেতারা উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা জেলা ও মহানগরে ২৫টি গায়েবি মামলা করে সাড়ে তিন হাজারের মতো নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার বিএনপিকে দমন করতে হাতিয়ার হিসেবে মিথ্যা মামলাকে বেছে নিয়েছে। এসব মামলার উদ্দেশ্য এখন স্পষ্ট। বিএনপি যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সেজন্য একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে সব মামলা প্রত্যাহার ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দাবি করেন।
মঞ্জু বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রার্থীরা প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছেন। রাজপথে আন্দোলনে নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তার পরও নির্বাচনের মাঠে বিএনপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।’
বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রাখতে মিথ্যা, গায়েবি ও ভৌতিক মামলা হচ্ছে-এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনর সোনালী সেন বলেন, এ কথা ঠিক নয়। ঘটনা ঘটছে বলেই তো মামলা হয়েছে।
জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ওই নির্বাচনে খুলনা-২ ছাড়া বাকি পাঁচটি আসনে জয় পায় ক্ষমতাসীন দল। এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। একইভাবে খুলনা-১ ছাড়া বাকি পাঁচটি আসনে জয় পায় বিএনপি-জামায়াত জোট।
তবে, ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় ছয়টি আসনের সবকটিই পায় আওয়ামী লীগ।
এদিকে একের পর এক মামলার জালে আটকা পড়ছে খুলনা বিএনপি। বিগত ১০ বছরের পর হালে ‘গায়েবি’ মামলার পরও কেন্দ্র ঘোষিত দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। মাঠ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ছয়টি আসনেই এবার বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন।
দলের অঙ্গসংগঠনের মহানগর ও জেলার শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের বেশির ভাগ নেতাই মামলার জালে বন্দি। খুলনার রাজপথে তেমন রাজনৈতিক উত্তাপ না থাকলেও মামলা ও আসামির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব মামলা নিয়ে অনেকটা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
বিএনপির অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। অপরদিকে বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রাখতে ‘মিথ্যা, গায়েবি ও ভৌতিক’ মামলা দেয়া হচ্ছে। কোনো কারণ কিংবা ঘটনা ছাড়াই অযথা মিথ্যা মামলা দায়ের করে, নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ তল্লাশি অভিযান, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গ্রেপ্তার করছে।
খুলনা মহানগরীর থানাগুলোতে আগের মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদান করার পর নতুন করে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘গায়েবি মামলা’ দায়ের করায় মহানগর বিএনপি বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছে।
তবে পুলিশের দাবি, সরকার বিরোধী কাজ, পুলিশের কাজে বাধা-হামলা, ভাংচুরের দায়ে এসব মামলা করা হচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে বা কঠিন ধারায় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে- বিএনপির এমন অভিযোগ সত্য নয়।
খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, এক মাস ধরে প্রতিদিনই খুলনার ৯ থানায় গায়েবি মামলা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়রায় ৩টি, দাকোপে ২টা, বটিয়াঘাটায় ৩টি, ডুমুরিয়ায় ৪টি, দিঘলিয়ায় ২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় হাজার আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আছে আরও ২ হাজার।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ও আন্দোলনকে সামনে রেখেই এসব গায়েবি মামলা করছে পুলিশ। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। কেবল নেতাকর্মীদের হয়রানি করার লক্ষ্যে এসব মামলা করা হচ্ছে।
মহানগর বিএনপির প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, কেবলমাত্র ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর খুলনা মহানগরীতে ১১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সদর থানায় ৩টি, সোনাডাঙ্গায় ২টি, খালিশপুরে ২টি, দৌলতপুরে ২টি, খানজাহান আলী ১টি, লবনচরায় ১টি মামলা হয়েছে। নামে-বেনামে এসব মামলার আসামি প্রায় দেড় হাজার।
অপরদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে খুলনায় প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান জানান, খুলনার সবগুলো আসনেই সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আসনগুলোতে যারা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় তারাই মনোনয়ন পাবেন।
আর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিরোধীরা নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তারা বিদেশি আর অপশক্তির আশ্রয় নিয়ে আগামী নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। কিন্তু দেশের মানুষ আর কোনো অপশক্তিকে প্রশ্রয় দিবে না।

বাংলাটুডে২৪/এবিএস

Comments are closed.