rockland bd

কাউনিয়ার তিস্তা নদী এখন মরা খাল

0

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
‘তিস্তার কতা কী আর কমো বাহে,কয়মাস অগেও তিস্তা হামার বাড়ী ঘর ভাঙ্গিল, তখনকার তিস্তার ঢেউয়ে হামার কইলজ্যাত পানি থাকে নাই আর এলা সেই তিস্তার নিজেরই বুকোত পানি নাই, চাইরো পাকে খালী ধ্বসধ্বশা বালা আর বালা, তোমরায় চোখ দিয়া দ্যাখেন উজান ভাটি শুধু চর আর চর, পুলের গোরত (ব্রীজের নীচে) অল্প একনা ঘোলা পানি, মাছের তো দ্যাখা সাক্ষাৎ নাই, তিস্তা দ্যাখি এলা মনে হয় তিস্তা একনা মরা খাল। কথা গুলো পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের জাহেদুল ও নিজপাড়া গ্রামের আঃ আউয়াল বললেন।

সরেজমিনে নদী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সত্যি নিজের চোখে না দেখলে প্রমত্তা তিস্তার জীর্ণদশা বিশ^াস যোগ্য মনে হবে না। ভারতের গজল ডোবার তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণ করায় এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে ব্যার্থ হওয়ায় ধীরে ধীরে তিস্তা নদী পানি শূন্য হয়ে কংকালসার মরা গাং এ পরিণত হয়েছে। ফলে তিস্তা নদী বর্ষা মৌসুমে পানির দেখা পেলেও শুকনো মৌসুমে থাকে হাটু পানি আর শুধুই ধু-ধু বালুচর। ভারতের গজল ডোবার দো-মোহনী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এ দেশের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তা। দেশের উত্তরের জেলা নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভেতর দিয়ে এঁকে বেঁকে তিস্তা নদীর বিসর্জন হয়েছে ব্রক্ষ্মপুত্র নদে। তিস্তার এই প্রবাহ ধারা বাংলাদেশে রয়েছে ১ শত ১৫ কিলো মিটার। বিশাল এ তিস্তার সন্তানও রয়েছে অনেক তার মধ্যে করতোয়া, মরাসতী, ছোট তিস্তা, বুড়ী তিস্তা প্রমূখ এখন পানি শুন্য। কিন্ত বর্ষার তিস্তায় নদী ভাঙ্গনে বসত ভিটা, ফসল হানী এসব থেকে পরিত্রান পায় না রংপুর বিভাগের ৫ জেলার লাখো মানুষ।

এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ-ভারত তিস্তা পানি চুক্তিতে বসে সিদ্ধান্ত হয় তিস্তার পানি ৩৬ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ আর ৩৯ শতাংশ পাবে ভারত আর বাকী ২০ শতাংশ পানি নদী সংরক্ষণের জন্য রাখা হবে। কিন্ত পরবর্তীতে ভারত গজল ডোবায় বাঁধ নির্মান করে পানি প্রবাহ আটকে দেয়। ফলে তিস্তার তলদেশে অজ¯্র পাথর,নুড়ি,বালী আর পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায় তিস্তার বুক তাই বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানি আছরে পড়ে নদীর দুই ধারে। সে কারনে প্রতি বছর ২০ হাজার মানুষ হয় গৃহ হারা, গাছপালা, আবাদী জমি হারিয়ে অনেকে হয়ে যায় পথের ভিখেরী। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে ভারত অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় নদীর দু’পারের মানুষের জমি, ঘরবাড়ী ডুবে সর্বশান্ত করে দেয় নদী আর খড়া মৌসুমে পানি অভাবে ইরি বোরো সহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ করতে পারে না কৃষক। এক সময় সারি সারি নৌকা মাল বোঝাই করে পাল তুলে দেশের বিভিন্ন জায়গা যেতো এই নদী পথে। বর্তমানে সেগুলো এখন কল্প কাহিনী। নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় এবং নদীতে পানির অভাবে মাছ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে শতশত জেলে পরিবার। এছাড়াও সরকারের নদী শাসনের পরিকল্পিত পরিকল্পনার অভাবে নদীর মাঝ খান উচু হয়ে পানি দু’পারে প্লাবিত হয়। নদীর ড্রেজিং এর কাজ কী তা এই এলাকার মানুষ জানে না অথচ নদী ড্রেজিং করে নদীর পানির গতি পথ সচল করলে একদিকে যেমন নদী ভাঙ্গন কমে যাবে অন্য দিকে কৃষক নদীর পানি দিয়ে সেচ কাজ চালাতে পারবে, এর ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ খরচ কমে যাবে অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। সরকার তিস্তা নদী জরুরী ভিত্তিতে ড্রেজিং করে কৃষি নির্ভর রংপুর বিভাগের ৫ জেলার কোটি মানুষের কৃষি আর মৎস্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করবে এটি এখন সাধারন মানুষের সময়ের দাবী।
রাকিব/৬/২/১৯

Comments are closed.