rockland bd

ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল ও তার স্ত্রী গ্রেফতার

0

ইভ্যালি

বিটি২৪ রিপোর্ট

প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে গুলশান থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন মো. আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। মামলায় তাদের ছাড়াও ইভ্যালির আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে ‘অজ্ঞাতনামা’ দেখিয়ে আসামি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইভ্যালির বিরুদ্ধে দুই লাখের বেশি গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পাঁচ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা হয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে। বেশিরভাগ গ্রাহকের দাবি ও অভিযোগ টাকা পরিশোধ করেও দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পাচ্ছেন না তারা। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দীর্ঘদিন ধরেই তালবাহানা করে আসছিল।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন সংস্থার (দুদক) অনুসন্ধানের ফলও নেতিবাচক। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক এনেছে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ। আর দুদক যে অনুসন্ধান চালিয়েছে তার প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পণ্য কেনার জন্য গ্রাহকরা ইভ্যালিকে যে অর্থ দিয়েছে তার প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকার খোঁজ মেলেনি। উভয় প্রতিষ্ঠানের ধারণা, ইভ্যালি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

তবে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল স্বীকার করেছেন তাদের দেনার পরিমাণ ৩১১ কোটি টাকা। দুই লাখ ৮ হাজার গ্রাহকের কাছে টাকা নিয়েও পণ্য দিতে না পারার কথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিলেন তিনি।
ইভ্যালির নিবন্ধিত গ্রাহক ৩৭ লাখের বেশি। এদের প্রায় সবারই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কম-বেশি অভিযোগ রয়েছে। তবে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে বিষয়গুলো আলোচিত না হয় ও তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি প্রকাশ না পায় সেজন্য বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল ইভ্যালি। গণমাধ্যমগুলোকে হাতে রাখতে প্রায় সব অনলাইন, টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলোতে নিয়মিতভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি জাতীয় ক্রিকেট দলসহ সরকারের আইসিটি বিভাগের অধীন আইডিয়া প্রজেক্টের রিয়েলিটি শো বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট (বিগ-২০২১) ইত্যাদি অনুষ্ঠানে স্পন্সর করে লাখ লাখ অভিযোগের বিপরীতে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছিল ইভ্যালি। প্রতিষ্ঠানটির অন্য কূট কৌশলগুলোর মধ্যে ছিল স্পোর্টস ও ফেসবুক সেলিব্রিটিকে মোটরসাইকেল উপহার দিয়ে তাদের মাধ্যমে ব্র্যান্ডের প্রচার চালানো, মিডিয়া সেলিব্রিটিকে মিডিয়া ম্যানেজার বানিয়ে অভিযোগের বদলে সাংবাদিকদের অভিনয়, গ্ল্যামার ইত্যাদি বিষয়ে আটকে রাখার চেষ্টা। তবে সবচেয়ে চাতুরি ছিল বেশ বড়সড় একটি টিম গঠন করে ফেসবুকে নিজেদের বুয়া প্রচারণা চালানো। এই প্রচারণায় প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য পাওয়ার অসত্য তথ্যকে কনটেন্ট আকারে তুলে ধরতো এসব পেইড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার। ফলে যত অভিযোগ উঠতো প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বানানো তথ্য দিয়ে পেইড কনটেন্ট রাইটার ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটাররা তা আড়াল করার চেষ্টা করতেন। তারা টাকা পরিশোধ করে পণ্যের অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকদের সত্য তথ্য না জানিয়ে তাদের তৈরি মিথ্যা কনটেন্ট দেখিয়ে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতো।

এ বিষয়ে নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন গ্রাহকরা। তবে একইসঙ্গে দুটি ক্ষতি করেছে ইভ্যালি বলে মনে করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। একটি গণমাধ্যমকে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ইভ্যালি দুটি ক্ষতি করেছে- প্রথমত, গ্রাহকের ক্ষতি। দ্বিতীয়ত, ইকমার্সের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট। এরপর থেকে দেশি কোনও প্রতিষ্ঠানকে জনগণ বিশ্বাস করবে না। এই সুযোগে বিদেশি কোম্পানি এসে নিয়ম মেনে ব্যবসা করবে। পরে তাদের দাপটে দেশে নতুন কোনও প্রতিষ্ঠান দাঁড়াতেই পারবে না।’

/টিএন/

Comments are closed.