rockland bd

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় চলছে সিরাজগঞ্জের নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজ

0

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত উত্তরবঙ্গের প্রথম বেসরকারি নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজ প্রশাসনের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি এবং ছাত্রীদের সাথে শিক্ষকদের অশোভন ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ডুবতে বসেছে। সম্প্রতি এ কলেজের একজন প্রভাষকের বিরুদ্ধে নেপালী ছাত্রীর যৌনপিড়নের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের কাছ থেকে বেড়িয়ে আসে কলেজ প্রশাসন ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ।

এজন্য কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এসএম আকরাম হোসেনের প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং কলেজের পরিচালক(প্রশাসন) আরমান আলী ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার উৎপল কান্তি ঘোষসহ কয়েকজন স্টাফকে নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। এ সিন্ডিকেটটির ভয়ে কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা তাদের অনেক ন্যায্য কথাও বলতে সাহস পাননা। কেউ কিছু বলেতে গেলে তাদের পরীক্ষায় ফেল করানো ও চাকুরী হারানোর ভয় দেখানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটটি বিধি বহিভূতভাবে ভর্তি বাণিজ্য, প্রতিটি প্রফেশনাল(প্রফ) পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ইন্টার্ণশীপের জন্য বোর্ডের সার্টিফিকেট আনতে অর্থ আদায়, ভ‚য়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতসহ কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকেন। এ সিন্ডিকেটটি কোন সার্কুলার না দিয়ে গোপন চুক্তির মাধ্যমে এক থেকে দু’লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে শিক্ষক বা প্রভাষক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। যে কারণে শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এছাড়া কলেজের কর্মচারীরা জানান, তাদের ক্ষেত্রে মজুরী কমিশনের বেতন কাঠামো অনুসরণ করা হয় না। বর্তমান বাজারে ৪-৫হাজার টাকা বেতনে সংসার চালাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়। বিভিন্ন সময় কলেজ অধ্যক্ষ ও পরিচালকের কাছে বেতন বৃদ্ধির দাবী জানানো হলেও কোন ফল পাননি তারা। এ কারণে বিক্ষুব্ধ কর্মচারীরা বাধ্য হয়ে সম্প্রতি কলেজ ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজে ছাত্রাবাস না থাকায় বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে পড়াশুনা করতে হচ্ছে। এতে মাদকসেবীদের চাঁদাবাজীর কবলে পড়ে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন তারা। এমনকি কোন কোন ছাত্রের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠছে মাদকের।

এছাড়া, ছাত্রীদের জন্য ভোজনশালা না থাকায় খাওয়ার জন্য যেতে হয় কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে। সেই সাথে ছাত্রীদের ক্যাম্পাসের বাইরে অবাধ যাতায়াতের সুযোগও রয়েছে। এক্ষেত্রে কলেজ প্রশাসনের কোন মনিটরিংও নেই। ফলে হরহামেশাই ঘটে যাচ্ছে নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা। চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর এই কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. তুহিনুর রহমানের বিরদ্ধে এক নেপালী ছাত্রী যৌনপিড়নের মামলা করায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষক এখন কারাগারে। গত কোরবানী ঈদের আগে ভাইরাল হয় দুই ছাত্র-ছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও। এর কিছুদিন আগে ভাইরাল হয় একজন শিক্ষকের সাথে তারই অধীনস্ত কয়েকজন নার্সের আপত্তিকর ভিডিও। সবশেষ চলতি বছরের ১৭সেপ্টেম্বর সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে অশোভন ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে ১৫তম ব্যাচের সকল ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। একের পর এক এ ধরনের ঘটনায় শহরে সমালোচনার ঝর বইছে। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন অভিভাবকরাও।

এমন অসংখ্য অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার কারণে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএ মতিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা কলেজটি হারাতে বসেছে তার অতীত ঐতিয্য।

অভিযোগকারীদের দাবী, অতিসত্বর অভিযুক্তদের অপসারণ করে শিক্ষার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা হোক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ফিরে পাক তার পুরনো ঐতিয্য। এজন্য সরকারের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

এবিষয়ে নর্থবেঙ্গল মেডিকেল কলেজের পরিচালক আরমান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলেজে কোন অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নেই। তবে কিছু কিছু সমস্যা আছে যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এসএম আকরাম হোসেন এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাটুডে/জেহাদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ /আর বি

Comments are closed.